বর্ষার চিরন্তন রূপ ও আবাহনকে বরণ করে নিতে ছায়ানটের মিলনায়তনে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় ‘বর্ষার অনুষ্ঠান ১৪৩৩’। এবারের আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয়েছে ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কবি ও সমাজসেবী বেগম সুফিয়া কামালকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘কথন’ উপস্থাপন করেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা। বক্তব্যে তিনি পাকিস্তানের বৈরী ও সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বেগম সুফিয়া কামালের অসমসাহসিক ভূমিকা ও অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
লাইসা আহমদ বলেন, ‘বেগম সুফিয়া কামাল ছিলেন সকল বাঙালির আশ্রয়, ভরসা এবং নির্ভয়ে এগিয়ে চলার চিরন্তন প্রেরণা। আমাদের কর্মই বলে দেবে তাঁর আদর্শকে আমরা কতখানি ধরে রাখতে পেরেছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্ষা শুধু একটি ঋতুর নাম নয়, এটি জীবনের এক গভীর উৎসব, যা মানুষের মনে জাগিয়ে তোলে এক অনির্বচনীয় সুর, প্রেম, বিরহ ও নবজাগরণ।

অনুষ্ঠানের মূল পর্বে কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী বর্ষার গানগুলো পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ছিন্নপত্র’-এর অংশবিশেষের পাঠ, যা উপস্থাপন করেন কৃষ্টি হেফাজ। কবি সুফিয়া কামালের বিখ্যাত কবিতা ‘সাঁঝের মায়া’ আবৃত্তি করেন আব্দুস সবুর খান চৌধুরী।
সঙ্গীত ও নৃত্যের পাশাপাশি যন্ত্রসঙ্গীতের মূর্ছনা অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। মুর্তুজা কবির মুরাদ তাঁর বাঁশিতে এবং এবাদুল হক সৈকত সেতারে বর্ষার রাগ রাগিণী চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলেন।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে ছায়ানটের শিল্পীদের সম্মিলিত কণ্ঠে ‘এসো শ্যামল সুন্দর’ নৃত্যগীত এবং সবশেষে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এই সুধাময় বর্ষা বন্দনার সমাপ্তি ঘটে।