দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে এবারের শুদ্ধি অভিযানের ‘লাইন অব অ্যাকশন’ আরও কঠোর। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা, অপরাধের ক্ষেত্রে পদ-পদবি বা রাজনৈতিক পরিচয় কোনো বিবেচ্য বিষয় হবে না। এরই মধ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থার আওতায় এসেছেন গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। সামনে আরও কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী ও দলীয় নেতার কর্মকাণ্ডও নজরদারিতে রয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
দলীয় শৃঙ্খলাসহ সরকার ও দলের ভাবমূর্তি সুরক্ষার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন কঠোর সিদ্ধান্তে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় নড়েচড়ে বসেন দলটির লাখ লাখ নেতাকর্মী। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে থাকেন তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। অপরদিকে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় প্রশংসায় ভাসতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র যুগান্তরকে জানায়, চাঁদা, দখলবাজিসহ সব ধরনের ‘বাজিকর’দের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়ম, দুর্নীতি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও যে কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তিনি কোন পদে আছেন, সেটি দেখা হবে না। বরং তার অপরাধের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
সূত্রমতে, দলীয় শৃঙ্খলা সুরক্ষার এই অভিযানে ‘ঝুঁকিতে’ আছেন আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতা। তাদের বিষয়টিও তদন্তাধীন। এছাড়া সতর্ক করা হয়েছে দলের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকেও। দলের হাইকমান্ড থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কাউকেই কোনো ধরনের সাংগঠনিক সুরক্ষা দেওয়া হবে না। নেতা যত বড়ই হোক, সাংগঠনিক শাস্তির আওতায় আসতেই হবে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, সরকারে আসার পর দলের নেতাকর্মীদের আচরণ এখন আরও গুরত্বপূর্ণ। কারণ, তাদের কর্মকাণ্ডের প্রভাব পড়ছে সরাসরি সরকারের ওপর। তাই দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়-এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।