1. admin@allianceray.org : admin :
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

‘অ্যান্টি-গুন্ডা বিল’ নিয়ে তোলপাড় পশ্চিমবঙ্গ: কী আছে এই বিতর্কিত আইনে

  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ১ পড়া হয়েছে:

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হয়েছে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘অ্যান্টি-গুন্ডা বিল’, যা নিয়ে রাজ্যটির রাজনৈতিক অঙ্গন এবং নাগরিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গত ২৯ জুন বিধানসভায় ১৭৬–৪১ ভোটে বিলটি পাশ হয়।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের আনা এই বিলটির অফিশিয়াল নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ প্রশাসনের দাবি, রাজ্যে বিগত বছরগুলোতে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি (চাঁদাবাজি), রাজনৈতিক সহিংসতা এবং খনি মাফিয়াদের দমন করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মী ও বিরোধী দলগুলোর মতে, এই আইন নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করবে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে এর অপব্যবহার হতে পারে।

কী আছে এই বিলে

প্রস্তাবিত এই আইনে প্রশাসন ও পুলিশকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে—এমন সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার বা তার ঊর্ধ্বর্তন কর্মকর্তার রিপোর্টের আলোকে প্রশাসন তাকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিচার বা চার্জশিট ছাড়াই সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটকে রাখতে পারবে।

এই প্রস্তাবিত আইনে ‘গুন্ডা’ শব্দের ব্যাপক সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অভ্যাসগত অপরাধী, সংগঠিত অপরাধী দলের সদস্য, তোলাবাজি, জমি দখল, অবৈধ খনি, প্রাকৃতিক সম্পদ পাচার এবং অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরক আইনের অপরাধীরা অন্তর্ভুক্ত। প্রস্তাবিত এই আইনে পুলিশকে তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত ও গ্রেপ্তারের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’–এর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের মূল আইনটি সংশোধন করে, অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি কিংবা দাঙ্গা ও গণ-অশান্তির সময় সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের দায়ে অভিযুক্তদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকার ক্রোক, বাজেয়াপ্ত এবং নিলাম করতে পারবে।

এই আইনের অধীনে সব অপরাধকে আমলযোগ্য এবং অজামিনযোগ্য করা হয়েছে। এছাড়া কোনো পলাতক অপরাধীকে আশ্রয় বা সাহায্য করাও এই আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অন্যদিকে, ‘গুন্ডা’ হিসেবে তাকেই গণ্য করা হবে, যে অভ্যাসগতভাবে অসামাজিক কাজ করে, ভারতীয় ন্যায় সংহিত ২০২৩-এর ধারা ১১১ বা ১১২-এর অধীনে অভিযুক্ত, অথবা অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরক আইনের অধীনে অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং সমাজের জন্য বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত।

 ‘মানবাধিকার হরণ ও রাজনৈতিক অপব্যবহারের’ আশঙ্কা

বিলটি পাশ হওয়ার পর থেকেই তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশের বিতর্কিত ‘গ্যাংস্টার অ্যাক্ট’-এর আদলে তৈরি এই আইনটি মূলত বিরোধী কণ্ঠস্বর এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। আইনের একটি ধারায় বলা হয়েছে, প্রশাসন চাইলে ‘জনস্বার্থের’ অজুহাতে আটক ব্যক্তিকে তার আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো থেকে বিরত থাকতে পারবে, যা আইনি স্বচ্ছতাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

তবে বিধানসভায় বিলটির পক্ষে জোরদার সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিদ্যমান ফৌজদারি আইনগুলো সমাজবিরোধী ও গ্যাংস্টারদের দমনে পর্যাপ্ত নয়। ঋষি অরবিন্দ এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর এই পবিত্র পুণ্যভূমিতে কোনো দেশবিরোধী বা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।” তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, “এই আইন কোনো ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে অপপ্রয়োগ করা হবে না, এটি কেবল অপরাধী দমনের জন্য।”

আইনটি কার্যকর হতে এখন শুধু রাজ্যপাল এবং ভারতের রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষা। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কার্যকর হলেও বিলটির বেশ কিছু ধারা শেষ পর্যন্ত আদালতে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে

শেয়ার করুন

এই ধরণের আরও নিউজ