চিকিৎসা নিতে এসে সুস্থ হওয়ার বদলে প্রতিদিনই আতঙ্ক নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। ১৩ বছর আগে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও নামমাত্র সংস্কার করে এখনো সেখানেই চলছে চিকিৎসাসেবা। দ্রুত নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণের দাবি চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনরা।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৩ সালে ৩১ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। ২০১৩ সালে ভবনটিকে মৌখিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও নামমাত্র সংস্কার করে এখনো এখানেই চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা এই হাসপাতাল। কিন্তু চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিজেদের নিরাপত্তা। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়ত ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীরা জানান, মাথার ওপর থেকে কংক্রিটের টুকরো পড়ছে, এমনকি খাবারের মধ্যেও পলেস্তারা পড়ে। ফলে চিকিৎসার পাশাপাশি দুর্ঘটনার শঙ্কাও তাড়া করে ফিরছে তাদের।
শুধু রোগীরাই নন, এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই নিয়মিত শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে বাধ্য হয়েই এখানে আসছেন অভিভাবকরা। তাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি তাদের।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধও করা হয়েছে।
পুরনো হাসপাতাল ভবনগুলো ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে। এ বিষয়ে শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নয়, গণপূর্ত বিভাগও কাজ করছে।
প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার ওপর নির্ভরশীল। তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করে আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই হাসপাতাল ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন রোগী, স্বজন ও এলাকাবাসী।