1. admin@allianceray.org : admin :
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন

নেত্রকোণায় ৬ মাসে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু, প্রাণহানি ঠেকাতে নেই কার্যকর উদ্যোগ

  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ পড়া হয়েছে:

নেত্রকোণায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন। সচেতনতার ঘাটতির পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র ও বজ্রনিরোধক ব্যবস্থার অভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। প্রাণহানি কমাতে প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগের দাবি জেলাবাসীর।

হাওর, পাহাড়ি এলাকা ও সমতলভূমি নিয়ে গঠিত নেত্রকোণা দেশের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ জেলা। প্রতি বর্ষা মৌসুম এলেই বজ্রপাত যেন নিয়ে আসে মৃত্যুর বিভীষিকা। একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ বাড়লেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন এই ছয় মাসে বজ্রপাতে মারা গেছেন ১২ জন, আহত হয়েছেন আরও একজন। নিহতদের বেশিরভাগই মাঠে কাজ করা কৃষক এবং নদী-হাওরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে।

কৃষকদের অভিযোগ, বজ্রবৃষ্টি শুরু হলে বিস্তীর্ণ হাওরের খোলা মাঠে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে হয়। এতে প্রতিবছরই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।

বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সরকারি উদ্যোগ না থাকায় হতাশা ও আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, হাওরাঞ্চলে দ্রুত বজ্রপাত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, প্রয়োজনীয় বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হোক।

ভয়েসওভারঃ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জানান, ২০২২ সালে জেলায় ৩৪টি বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হলেও জেলার আয়তনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে হাওরাঞ্চলে আরও বজ্রনিরোধক দণ্ড ও আশ্রয় ছাউনি নির্মাণ করা হবে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত সাত বছরে নেত্রকোণায় বজ্রপাতে কৃষক, জেলে, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়োপযোগী পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই পারে বজ্রপাতে প্রাণহানির এই দীর্ঘ তালিকা কমিয়ে আনতে।

শেয়ার করুন

এই ধরণের আরও নিউজ